Friday , 14 August 2020

সংবাদ শিরোনাম
Home » প্রচ্ছদ » ১৫ বছর পর বড়লেখার ‘উজালা গ্রন্থাগার’ চালুর উদ্যোগ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে কার্যক্রম

১৫ বছর পর বড়লেখার ‘উজালা গ্রন্থাগার’ চালুর উদ্যোগ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে কার্যক্রম

October 11, 2019 12:49 pm Comments Off on ১৫ বছর পর বড়লেখার ‘উজালা গ্রন্থাগার’ চালুর উদ্যোগ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে কার্যক্রম A+ / A- সংবাদটি ৬৭৭ বার পাঠ করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজারের বড়লেখার একমাত্র গণগ্রন্থাগার ‘উজালা গ্রন্থাগারটি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ বড়লেখা পৌরসভাকে গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য হস্তান্তর করেছেন। গত ০৩ অক্টোবর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বড়লেখা পৌর পরিষদের কাছে লাইব্রেরির বইসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ও কাগজাদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৯৬০ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘উজালা গ্রন্থাগার’ নামে একমাত্র গণগ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বড়লেখা প্রেসক্লাব’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রমাপদ চন্দের বাসার একটি অংশকে গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহার করে এর কার্যক্রম চালু হয়েছিলো। উপজেলা সদরের মহুবন্দ গ্রামের বাসিন্দা ফুটবলার সামছুল আলম চৌধুরী আমান ও মরহুম একরাম আলীর যৌথ উদ্যোগে এটি চালু হয়। এখানে ছিলো শত শত মূল্যবান বই। প্রতিদিনই এই গ্রন্থাগারে নানা শ্রেণি-পেশার পাঠকদের জমজমাট সাহিত্য আড্ডা বসতো।
১৯৬৭ সালে বারইগ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য ২ শতাংশ ভূমি গ্রন্থাগারের নামে দান করেন। এই ভূমিতে ১৯৮৫ সালে গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হয়। সেখানে এর কার্যক্রম শুরু হয়। আশির দশকে এই গ্রন্থাগারের সাথে সম্পৃক্ত হন বর্তমান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম, সমাজসেবক ফৈয়াজ আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মন্তজির আলী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিসবাউজ্জামান মাখন, সাবেক ইউপি সদস্য ভূমিদাতা আব্দুল জলিল, বড়লেখা প্রেসক্লাব’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোপাল দত্ত, সমাজসেবক ও সাবেক গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল হাফিজ চৌধুরী আবু, সমাজসেবক আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবকাঠামো, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে ৯০ দশকের পর থেকে কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। বইপত্র সংগ্রহ ও আসবাবপত্র সংস্কার করে এটি পরিচালনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ২০০৫ সালে গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গ্রন্থাগারের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিত্যক্ত ঘরে একজন চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।
পৌরসভার আগ্রহের প্রেক্ষিতে প্রায় ১৫ বছর ঐতিহ্যবাহী এ গ্রন্থাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো। সে লক্ষ্যে গ্রন্থাগার কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় পৌরসভাকে এর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার। এরপর গত ৩ অক্টোবর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে ভূমি, লাইব্রেরির বইসহ অন্যান্য আসবাবপত্র এবং কাগজাদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হস্তান্তরের সময় উজালা গ্রন্থাগারের পক্ষে কমিটির বর্তমান সভাপতি সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মিসবাউজ্জামান মাখন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হাফিজ চৌধুরী আবু, সদস্য ফৈয়াজ আলী, সদস্য গোপাল দত্ত এবং পৌরসভার পক্ষে পৌর মেয়র কামরান চৌধুরী, কাউন্সিলর আলী আহমদ চৌধুরী জাহেদ, আব্দুল মতিন, আব্দুল মালিক জুনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রন্থাগার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ চৌধুরী আবু জানান, অবকাঠামোগত সমস্যাসহ নানা কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে আর চালু করা সম্ভব হয়নি। গত বছর পৌর মেয়রের আগ্রহের প্রেক্ষিতে আমরা সভা করে সিদ্ধান্ত নিই পৌরসভাকে হস্তান্তর করার। এরপর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো: কামরান চৌধুরী জানান, উজালা গ্রন্থাগার স্বাধীনতাত্তোর বড়লেখার একটি ঐহিত্যবাহী গ্রন্থাগার। গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান ছিলো এটি। এটির মাধ্যমে আশির দশক পর্যন্ত লাইব্রেরি সচল ছিলো। এটা সে সময়ের শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ ব্যবহার করেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সবাই উজালা গ্রন্থাগারকেন্দ্রিক ছিলো। আশির দশক পরে আস্তে আস্তে এর জৌলুস হারিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালে নানা কারণে এটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আগ্রহ দেখাই। পরে গ্রস্থাগার কমিটি পৌরসভাকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি সব কাগজাদিসহ হস্তান্তর করেছেন। ভূমি বুঝে পেয়েছি। জায়গাটিতে একজন চা বিক্রি করেন। তিনি একমাস সময় নিয়েছেন। আমরা পরিবেশমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করবো।

১৫ বছর পর বড়লেখার ‘উজালা গ্রন্থাগার’ চালুর উদ্যোগ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে কার্যক্রম Reviewed by on . নিজস্ব প্রতিবেদক :: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজারের বড়লেখার একমাত্র গণগ্রন্থাগার ‘উজালা গ্রন্থাগারটি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ বড়লেখা নিজস্ব প্রতিবেদক :: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজারের বড়লেখার একমাত্র গণগ্রন্থাগার ‘উজালা গ্রন্থাগারটি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ বড়লেখা Rating: 0
scroll to top

Developed by: