Friday , 14 August 2020

সংবাদ শিরোনাম
Home » কলাম » শিক্ষকের মর্যাদা ও একজন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

শিক্ষকের মর্যাদা ও একজন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

October 5, 2019 4:27 pm Comments Off on শিক্ষকের মর্যাদা ও একজন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান A+ / A- সংবাদটি ৬১৬ বার পাঠ করা হয়েছে
আশফাক জুনেদ :: শিক্ষক আমাদের জ্ঞান দান করেন। বিদ্যার আলোয় আলোকিত করেন আমাদের জীবন। আমাদের পথপদর্শক হিসেবে শিক্ষক কাজ করেন।সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি হচ্ছেন একজন শিক্ষক। কারণ একজন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। তিনি তার সর্বোচ্চ দিয়ে একজন ছাত্রকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।তাই তিনি সবার কাছে সম্মাননীয় ও মর্যাদাবান ব্যক্তি। শিক্ষককে সবাই সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন। আমাদের প্রত্যেকেরই শিক্ষক রয়েছেন। যাদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি বা এখনও শিখে চলেছি। তাদেরকে আমরা সম্মান করি এবং সম্মান করা উচিত। কিন্তু বর্তমান এই যুগে শিক্ষক আর আগের মতো সম্মানিত হন না। প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত-বঞ্চিতের শিকার হন মানুষ গড়ার কারিগরেরা। কখনও ছাত্রের হাতে কখনও অভিভাবকের হাতে আবার কখনওবা প্রশাসনের হাতে। শিক্ষকরা নিপীড়িত হচ্ছেনই। আমাদের উচিত ছিলো শিক্ষকদের মাথায় তুলে রাখা। কিন্তু আমরা তা করছি না। আজ চারিদিকে একটু নজর দিলেই দেখা যায়, শিক্ষকেরা কতোটা অসহায়। প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যে থাকেন তারা।একসময় শিক্ষকদের দেখলে শিক্ষার্থীরা ভয়ে কাঁপতো। আর এখন শিক্ষকেরা সম্মান হারানোর ভয়ে কথিপয় শিক্ষার্থীদের দেখলে কাঁপেন।এটা কেনো? সমাজের এই অধঃপতন কেনো? আজকাল লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, অনুষ্ঠানে শিক্ষকের ছাত্র প্রধান অতিথি অথচ সেই অনুষ্ঠানে একেবারের পিছনের সারিতে সেই শিক্ষক বসা। আবার অনেক জায়গায় দেখা যায়, শিক্ষক যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেই স্কুলের গভর্ণিং বডির সভাপতি তারই ছাত্র তার উপরে খবরদারি করে। এ রকম শত শত উদাহরণ সমাজে রয়েছে তা লিখে শেষ করা যাবে না।
একজন শিক্ষকের মর্যাদা কতোটুকু তা আমরা পঞ্চম শ্রেণীর বইয়ে লিখিত কবি কাদের নেওয়াজ এর বিখ্যাত কবিতা”শিক্ষাগুরু “পড়লেই জানতে পারবো। কবিতায় কবি একজন শিক্ষকের কতোটা মর্যাদা তা তুলে ধরেছেন। পৃথিবীতে যে যতো বড়ো ব্যক্তি হোক না কেনো একজন শিক্ষকের কাছে সে ছাত্রই। সর্বদা শিক্ষকের মর্যাদা সবার উপরে তিনি এটা বুঝাতে চেয়েছেন। কবিতায় কবি ফুটিয়ে তুলেছেন ছাত্রের কাছে শিক্ষকের স্থান কোথায়। কবিতার সারমর্ম এ রকম যে, বাদশাহ আলমগীরের পুত্র তার শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছিলো কিন্তু হাত দিয়ে ধুয়ে দিচ্ছিলো না।এ ব্যাপারটি দেখে বাদশাহ মর্মাহত হন। তিনি সেই শিক্ষককে ঢেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন আপনি তো আমার ছেলেকে সৌজন্যতা কিছুই শেখাননি বরং বেয়াদবি শিখাচ্ছেন। তখন শিক্ষক বললেন, আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না জাঁহাপনা। বাদশাহ তখন শিক্ষককে বললেন, আমি দেখলাম আমার ছেলে আপরার চরণে শুধু পানি ঢালছে। সে কেনো আপনার পা সযত্নে ধুয়ে দিলো না। আমি বিষয়টা দেখে ব্যথা পেয়েছি। তখন সেই শিক্ষক আপ্লুত হয়ে যান আর উচ্চস্বরে বলেন, “আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির, সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর।” অর্থাৎ একজন বাদশাহ হয়েও শিক্ষককে কতোটা উপরে স্থান দিয়েছেন সেটিই কবিতায় ফুটে উঠেছে। আসলে শিক্ষকের স্থান সেখানেই থাকা উচিত, যে স্থান বাদশাহ আলমগীর দিয়েছেন। সমাজ দিনকে দিন অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে। সমাজ থেকে প্রকৃত সম্মান-শ্রদ্ধা উঠে যাচ্ছে। তারপরও কিছু মানুষ রয়েছেন যারা এখনও সম্মান দিতে জানেন। তেমনই একটা ঘটনার বাস্তব সাক্ষী হলাম। গত মঙ্গলবার শিক্ষকের প্রতি একজন ছাত্রের বিরল সম্মানসূচক আচরণ আমাকে আপ্লুত করেছে। আর সেটি থেকেই এই লেখার অবতারণা।
গত মঙ্গলবার বড়লেখা উপজেলায় একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। বইয়ের মোড়ক উন্মোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অরুণ কুমার চক্রবর্ত্তী। তিনি তার বক্তব্যে একটি ঘটনার কথা বলেছেন, যে কথাটি উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। ঘটনাটি হলো-তিনি একই দিনে আরও একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। আবার সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তারই ছাত্র বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) তাজ উদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী, তাজ উদ্দিনই প্রধান অতিথি হওয়ার কথা এবং সেটা হয়েছে।কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে দেখা গেলো তার উল্টো। অনুষ্ঠানে একটি রক্তদান সংস্থার অভিষেক ছিলো। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কাটার কথা ছিলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিনের। কিন্তু সেটা হলো না। উপস্থিত সবাইকে অবাক করে ফিতা কাটার জন্য কাঁচি তুলে দেন তারই শিক্ষক অরুণ কুমারের হাতে। তখন তিনি বলেন, যে অনুষ্ঠানে স্যার উপস্থিত সেখানে প্রধান অতিথি থাকার যোগ্যতা আমার নেই। স্যারই আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। তাজ উদ্দিনের এমন কথায় উপস্থিত সবাই আপ্লুত হয়ে যান। শিক্ষকের প্রতি তার এমন সম্মানসূচক আচরণে সবাই অশ্রুসিক্ত হন। আসলে শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের ব্যবহার এমনই হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে যেখানে ছাত্রের কাছে শিক্ষকেরা অপদস্থ হচ্ছেন তখন এমন ঘটনা শিক্ষকদের সম্মানিত করে, গর্বিত করে। অনুষ্ঠানে অরুণ কুমার দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে বলেন, আমি তাজের মতো ছাত্র পেয়ে গর্বিত। সে আমায় যে সম্মান দেখিয়েছে, তা আমার আজীবন মনে থাকবে।কাকতালীয়ভাবে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তাজ উদ্দিন। সেখানেও তিনি তার শিক্ষক অরুণ কুমারকে প্রধান অতিথি দিয়ে সম্মানিত করেন। যদিও অরুণ কুমার অনুষ্ঠানের মোড়ক উন্মোচক ছিলেন।
বর্তমানে যেখানে একজন ওয়ার্ডের মেম্বার হওয়ার পর অনেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যান। মানুষকে মানুষ মনে করেন না, সেখানে উপজেলার অন্যতম সর্বোচ্চ ব্যক্তি হয়েও শিক্ষকের প্রতি তাজ উদ্দিনের সম্মান প্রদর্শন সত্যিই বিরল। অরুণ কুমার চক্রবর্ত্তী’র বক্তব্যটি যখন আমি শুনছি, তখন মনের ভিতর অন্য রকম এক অনুভূতি কাজ করছিলো। তাজ উদ্দিনের প্রতি সম্মান বহুগুণ বেড়ে গেলো। তখন মনে মনে চিন্তা করলাম, আমি যদি কোনো দিন, কোনো অবস্থানে যাই তখন কি সেই সম্মান আমি আমার স্যারকে দেখাতে পারবো? না অহংকার আর বড়ত্বের মোহে নিজেকে হারিয়ে ফেলবো। সেই ভয় ও শংকা দাগ কাটে মনে। পরিশেষে, শিক্ষকের প্রতি তাজ উদ্দিনের এমন আচরণ সমাজের অন্য সব জনপ্রতিনিধির কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক এটাই চাওয়া। শিক্ষকেরা সম্মানিত হোন। তাদের স্থান ও মর্যাদা থাকুক সবার উপরে এই কামনা।
লেখক : ছাত্র, সিলেট সরকারি কলেজ।
শিক্ষকের মর্যাদা ও একজন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Reviewed by on . আশফাক জুনেদ :: শিক্ষক আমাদের জ্ঞান দান করেন। বিদ্যার আলোয় আলোকিত করেন আমাদের জীবন। আমাদের পথপদর্শক হিসেবে শিক্ষক কাজ করেন।সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্ আশফাক জুনেদ :: শিক্ষক আমাদের জ্ঞান দান করেন। বিদ্যার আলোয় আলোকিত করেন আমাদের জীবন। আমাদের পথপদর্শক হিসেবে শিক্ষক কাজ করেন।সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্ Rating: 0
scroll to top

Developed by: